শুভময় পাত্র,বীরভূম ও প্রতিনিধি বর্ধমান:- পূর্ব বর্ধমানের রায়না,আউশগ্রাম সহ বিভিন্ন ব্লকে বুধবার চালু হল দুয়ারে রেশন প্রকল্প।একুশের নির্বাচনের জয়ের তিনমাসের মধ্যেই প্রতিশ্রুতিমতো প্রকল্প রূপায়ণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনী ইস্তেহারে দুয়ারে রেশন প্রকল্প চালুর কথাও বলেছিলেন তিনি। এবার সেই কথা রাখলেন। বুধবার দুয়ারে রেশন প্রকল্প চালু হল পূর্ব বর্ধমানের রায়নার বিভিন্ন এলাকায়।
রায়না ১ নম্বর ব্লকের কোনাকৃষ্ণপুর এলাকার উপভোক্তারা রেশনের সামগ্রী সংগ্রহ করেন। রেশন ডিলাররা জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প দুয়ারে রেশন। এটা একটা পাইলট প্রোজেক্ট।এদিন উপভোক্তাদের চাল, গম, আটা, চিনি দেওয়া হল। উপভোক্তারা জানান, আগে রেশন দোকানে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে রেশন সংগ্রহ করতে হতো। কিন্তু এখন আর লাইনে নয়, দুয়ারে রেশন মিলছে।
এদিন রায়না ১ অঞ্চলের রেশন ডিলার এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি প্রবাল কোনার জানান প্রকল্পটা খুব-ই ভালো কিন্তু ব্যায় বহুল কারণ তাদের প্রতি কুইন্টালে ২০০ টাকার মতো বেশি খরচ হচ্ছে মাল নিয়ে যেতে , যদি রাজ্য সরকার এই অতিরিক্ত খরচের টাকা ডিলারদের দেন তাহলে আমাদের এই প্রকল্প চালিয়ে নিয়ে যাতে কোনো অসুবিধা নাই, রাজ্য সরকার নিশ্চই তাদের কথাও চিন্তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি ।
![]() |
| বীরভূম |
পাশাপাশি, বীরভূমেও শুরু হল দুয়ারে রেশন প্রকল্প। আজ বোলপুর ১০ নম্বর ওয়ার্ড ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের এই প্রকল্পের সূচনা করেন বোলপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারপারসন পর্ণা ঘোষ,রেশন আধিকারিক কৌশিক দাস সহ আরো অনেকে।
এদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেশন পৌছে দেওয়া হল সাধারণ মানুষের হাতে। আর এই পরিষেবা পেয়ে রীতিমতো খুশি সাধারণ মানুষ। অনেকেই জানান কখনো ভাবতেই পারিনি এই ধরনের পরিকল্পনা হতে পারে। অনেকের বয়স হয়েছে তাই রেশন দোকানে লাইন দিয়ে রেশন নেওয়া তাদের কাছে খুব কষ্টকর তাই বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছে রেশন রীতিমতো আপ্লুত তারা। ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্য সরকারকে।
আরো পড়ুন:- বেহাল রাস্তা সারাই-এর দাবিতে পথ ও রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালো এলাকাবাসী
এদিন বোলপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারপারসন পর্ণা ঘোষ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেণায় আজ থেকে বোলপুরের ১৭ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড এ চালু হলো। মুখমন্ত্রী প্রকল্পের কথা ঘোষণার পর ডিলার দের নিয়ে বৈঠক করা হয় তার সাথে সাথে বোলপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ড এর দায়িত্বে যারা আছেন তাদের নিয়েও বৈঠক হয় এবং তাদের কেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এছাড়াও বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল এর সহযোগিতায় সবাই একসাথে মিলে মানুষের যাতে সুবিধা হয় তার জন্য আজকে এই প্রকল্পের সূচনা হলো। তিনি জানান পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও এদিন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন প্রকল্পকে সফল করতে। তিনি আরো জানান ডিলারদের খুব বেশি অসুবিধা হবে না কারণ বোলপুরের সবাই আমরা সবার পশে আছি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের আগেই ঘোষণা করেন দুয়ারে রেশন প্রকল্পের আর ভোটের পর রীতিমতো সেই প্রকল্প চালু করে দেন। তবে এখন এটি পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে দেখছে সরকার। যাই হোক সাধারণ মানুষ যে পরিষেবা পাচ্ছে তাতে খুশি সকলে।

