নিজস্ব প্রতিনিধি:- বন্দুক দিয়ে আঘাত করে সোনা ও টাকা লুটের ঘটনায় ৪ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দশ দিল বর্ধমান আদালত। এছাড়াও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছর সশ্রম কারাবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দ্বিতীয় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক অর্জুন মুখোপাধ্যায় এই সাজা ঘোষণা করেছেন। সাজাপ্রাপ্তদের নাম অজয় দাস, রীতেশ কুমার রাম, সঞ্জিৎ কুমার বিন্দ ও রঞ্জিৎ কুমার বিন্দ।
বর্ধমান শহরের লক্ষ্মীপুরমাঠ এলাকায় অজয়ের বাড়ি। বাকিদের বাড়ি বিহারের লখিসরাই থানার অভয়পুর ও খাগুয়ার গ্রামে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৯৫, ৩৯৭ ও ৪১২ ধারায় সাজা দেওয়া হয়েছে। সাজা ঘোষণার আগে প্রত্যেকের বক্তব্য শোনেন বিচারক। তারা বয়স কম এবং তাদের রোজগারের উপর পরিবার নির্ভরশীল বলে জানায়। সরকারি আইনজীবী অবশ্য সর্বাোচ্চ শাস্তির পক্ষে সওয়াল করেন। সাজা ঘোষণা করে বিচারক মন্তব্য করেছেন, বিচার ব্যবস্থার স্বার্থেই ৪ জনকে সাজা দেওয়া হল। না হলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষ আস্থা হারাবে। অপরাধীরা ছাড়া পেলে অন্যরা এ ধরণের অপরাধ করতে উৎসাহিত হবে।
কেসের সরকারি আইনজীবী উদয় শংকর কোনার বলেন, ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন রাত ১২টা নাগাদ বর্ধমান থানার নেড়োদিঘির বাসিন্দা ওমর মোল্লা শহরের জেলখানা মোড় থেকে বাইকে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। বাজেপ্রতাপপুরে সাবজোলা পুলের কাছে একটি টাটা সুমো তাঁর পথ আটকায়। সুমো থেকে নেমে ৫ জন তাঁকে ঘিরে ধরে। তাদের মধ্যে একজন বন্দুকের বাঁট দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করে।
এরপর তাঁর কাছ থেকে সোনার চেন, হাতের ব্রেসলেট, ৭০ হাজার টাকা ও ২টি মোবাইল কেড়ে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে ওমরকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই হয়। ঘটনার বিষয়ে ওমর নিজেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। দুষ্কৃতিদের ধরতে একটি বিশেষ টিম গঠন করে পুলিস। পরের বছর ১২ মার্চ মাদক সহ ওই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান থানার পুলিস।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হয় পুলিস। ৫ জনকে টিআই প্যারেডে শনাক্ত করেন ওমর। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে বিহারে যায় পুলিস। সেখান থেকে মোবাইল দু’টি উদ্ধার হয়। ধৃত ৫ জনের মধ্যে একজন নাবালক বলে বিচার চলাকালীন জানা যায়। তার বিষয়টি জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে বিচারের জন্য পাঠানো হয়। ধৃতদের টিআই প্যারেডে এবং ডকে শনাক্ত করার বিষয়টি সাজা ঘোষণার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে, সাজাপ্রাপ্তদের আইনজীবী কমল দত্ত বলেন, ধৃতদের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি, ওমরের বাইকটিও পুলিস বাজেয়াপ্ত করেনি। মাদক মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পেয়েছে। অন্য একটি ছিনতাইয়ের মামলাতেও তাদের খালাস ঘোষণা করেছে আদালত। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল।
