Type Here to Get Search Results !

স্বামী নেই, বেপাত্তা শ্বশুর-শাশুড়ি,অসহায় গৃহবধুর পাশে দাঁড়ালো ব্যবসায়ীরা



সোমনাথ মুখার্জি , অন্ডাল : স্বামী মারা গেছে, শ্বশুর শাশুড়ি বেপাত্তা, অসহায় অবস্থায় দিন কাটছিল গৃহবধুর । মানবিকতার খাতিরে তার পাশে দাঁড়ালো ব্যবসায়ীরা । ঘটনাটি উখড়া বাজার এলাকার ।










বছর তিনেক আগে উখরা বাজারের ব্যবসায়ী লালন গুপ্তার ছেলে টিংকু গুপ্তার সাথে বিয়ে হয় পানাগড়ের বাসিন্দা রেনু গুপ্তার । দম্পতির বছর দু'য়েকের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে । মানসিক অবসাদের কারণে জুলাই মাসের এক তারিখ বাড়িতে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন টিংকু গুপ্তা । আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে । 











ন'দিন পর চিকিৎসা চলাকালীন টিংকু গুপ্তা-র মৃত্যু হয় । শোকের কারনে স্বামীর মৃত্যুর পর রেনু দেবী কন্যা সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান । তার অভিযোগ বাপের বাড়িতে থাকাকালীন শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার সাথে কোন যোগাযোগ করেনি । দুর্গাপুজোর পর রেনু দেবী নিজেই উখরায় শ্বশুরবাড়িতে ফিরে আসেন । এরপর শ্বশুর বাড়িতে শ্বশুর ও শাশুড়ি তার উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার শুরু করেন বলে অভিযোগ । 













এই সময় তিনি অন্তসত্বা ছিলেন । অত্যাচারের কারণে তার পেটের সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে জানান রেনু দেবী । এরপরই তিনি শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ এনে পুলিশের দ্বারস্থ হন । এই খবর জানতে পেরে শশুর মশাই লালন গুপ্তা ও শাশুড়ি ঘর ছেড়ে বেপাত্তা হয়ে যান । বাড়িতে অন্য কোন সদস্য না থাকায় তার প্রভাব পড়ে রেনু দেবী ও তার কন্যা সন্তানের উপর । অভুক্ত অবস্থায় তাদের দিন কাটে । 












বিষয়টি নিয়ে রেনু দেবী বাজারের ব্যবসায়ীদের দ্বারস্থ হন । তিনি জানান উখড়া বাজারে রয়েছে শ্বশুর লালন গুপ্তার হোলসেল স্টেশনারি দোকান । ঘর ছেড়ে আত্মগোপন করে থাকাই শ্বশুরের দোকানটিও তালা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে । নিজেদের ভরণপোষণের জন্য দোকানটি খুলে তিনি চালাতে চান বলে জানান বাজারের ব্যবসায়ীদের । ব্যবসায়ী-রা মানবিকতার কারণে তার পাশে থাকার বার্তা দেন । 














বৃহস্পতিবার সকাল দশটা নাগাদ অন্যান্য ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতেই তালা ভেঙে দোকানটি খুলেন রেনু দেবী । রেনু দেবী জানান স্বামী মারা যাওয়ার পর চরম কষ্টের দিন কেটেছে । এবার থেকে দোকান চালিয়ে সৎপথে রোজগার করে মেয়েকে বড় করব । ব্যবসায়ীদের পক্ষে মনোজ সরাফ,সীতারাম বর্ণাওয়ালরা জানান স্বামী নেই, শ্বশুর-শাশুড়ি বেপাত্তা এই অবস্থায় কন্যা সন্তান নিয়ে ওই বধু সমস্যায় পড়েছিলেন । মানবিকতার কারণেই ব্যবসায়ীরা ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়িয়েছে ।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad