নিজস্ব প্রতিনিধি,বর্ধমান:- দাদা বিজেপি করে এই এই সন্দেহে ভাই ও মাকে মারধরের অভিযোগ উঠলো শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। বর্ধমান শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাসপল্লী মাঠ পাড়া এলাকার ঘটনা। অভিযোগকারী রাজকুমার লেট জানান, সে নিজে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, কিন্তু তার বেশ কয়েকজন বন্ধুর বিজেপি করেন। বিজেপি কর্মী বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করায় তাদের পরিবারের উপর এই আক্রমণ বলে জানান রাজকুমার।
এমনকি অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে গত ২ মে নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর থেকে তাকে সপরিবারে ঘরছাড়া থাকতে হয়েছিল। কয়েকদিন আগে তারা বাড়ি ফেরার জন্য স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা দেবু গাঙ্গুলির সঙ্গে এবং তার মাধ্যমে বর্ধমান থানার পুলিশের সহযোগীতায় সোমবার তারা বাড়ি ফেরে।
অভিযোগ বাড়ি ফিরতেই তাদের এলাকার তিন তৃণমূল কর্মী দেবা মাল, দশরথ মাল ও অজয় মাল তাদের উপর চড়াও হয়।এরা সকলেই তৃণমূল নেতা নুরুল আলমের অনুগামী বলে জানান রাজকুমার। রাজকুমারের মা মাধবী লেট জানান, আমরা বাড়ি ফিরতেই আমাকে ও আমার ছোট ছেলেকে ওরা মারতে শুরু করে। আমার কোলে আমার ছোট্ট নাতি ছিল, ওদের ধাক্কায় আমি আমার নাতিকে নিয়ে পরে যাই। ওরা যা বলবে তাই করতে হবে না হলে এলাকায় থাকতে দেবেনা বলে শাসাতে থাকে তিন তৃণমূল কর্মী বলে জানান মাধবী দেবী।
রাজকুমারের ছোট ভাই বিশ্বজিৎ লেট বলেন, আমরা এখন তৃণমূল করি। কিন্তু ওরা কিছুতেই বিশ্বাস করতে চাইছে না। তাদের উপর লাঠি নিয়ে অভিযুক্ত তিন তৃণমূল কর্মী চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে বলে অভিযোগ করেন বিশ্বজিৎ লেট। এঘটনায় বর্ধমান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাস বলেন, কোন মারধরের ঘটনাই কাম্য নয়। কোন তৃণমূল কর্মী এই ধরনের কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পারে না। ঘটনার খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারবো বলে জানান প্রসেনজিৎ বাবু।
স্থানীয় তৃণমূল নেতা নুরুল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার দলের কর্মীদের উপর ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর অনেক বিজেপি কর্মী ভয়ে ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিল, কিন্তু তারা সকলেই ফিরে এসেছে। যেখানে প্রশাসনের আশ্বাসে আমরা বিজেপি কর্মীদের ঘরে ফিরিয়েছি সেখানে এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
