নীলেশ দাস ,আসানসোল:- সালানপুর ব্লকের পিঠাকেয়ারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গাফিলতির কারণে এক প্রসূতি মহিলার মৃত্যু এমনি অভিযোগ তুললো মৃতা মহিলার পরিজনেরা।আর মৃত্যুর পরেই পিঠাকেয়ারী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মুখ্য গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখায় মৃতার পরিবারের সদস্যরা এবং গ্রামবাসীরা।বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাকে ঘিরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মুখ্য গেটের সামনে প্রসূতির পরিবারের লোকজনেরা এসে ঘটনার সঠিক তদন্ত চেয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।
রূপনারায়ানপুর অঞ্চলের চিতালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মৃত প্রসূতী মহিলার দাদা দীনেশ রায় জানান ২১ তারিখ মঙ্গলবার রাত্রী ৭-টা নাগাদ তার কাকার মেয়ে আন্না রায়কে পিঠাকেয়ারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কিন্তু ভর্তি করার পরেও হাসপাতালে থেকে কোনো রকম চিকিৎসা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন মৃতার দাদা।
তিনি আরো বলেন পরের দিন সকালে পরিবারের সদস্যরা এসে চিকিৎসা জন্য আবেদন করেন এবং তার পাশাপাশি রোগীকে আসানসোলের জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার জন্যে আবেদন জানায় কিন্তু হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার তাদের জানান যে এখানে থাকার জন্যে এবং চার ঘণ্টা সময় চেয়ে নেয় তাই পরিবারের লোকেরা ডাক্তারের কথামতো পিঠাকেয়ারী হাসপাতালেই চিকিৎসার জন্য রাখে।
কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে যাবার পর প্রায় রাত্রি একটা নাগাদ হাসপাতাল থেকে তাদের পরিজনদের ফোন করে জানায় যে তাদের প্রসূতি মহিলাকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্যে পাঠাতে হবে।তাই তড়িঘড়ি প্রসূতি মহিলার পরিজনেরা মঙ্গলবার রাত্রি দুটো নাগাদ চিতালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আন্না রায় (২৩)নামে প্রসূতিকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে জরুরি বিভাগে ভর্তি করানো হয়।
কিন্তু প্রসূতি মহিলার শারীরিক অবস্থা ভাল ছিল না।সেখানেই গিয়ে তারা চিকিৎসকের কাছে জানতে পারে যে প্রসূতি মহিলার পেটের ভেতর বাচ্চা অনেক আগে মারা গেছে আর অনেকটা দেরি করে ফেলেছে তাই মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক।তবে প্রসূতী মহিলা কে প্রসূতি বিভাগে চিকিত্সা শুরু করা হয়।কিন্তু কিছুক্ষণ পরে প্রসূতি মহিলা আন্না রায় মারা যায়।
এরপরই পরিবারের লোকজন চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে পরের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে পিঠাকেয়ারী হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে।অভিযোগ কর্মরত নার্স ও ডাক্তার আন্নাকে ঠিকমত চিকিৎসা প্রদান করেনি তাছাড়া তার পরিজনদের গালিগালাজ করা হয়।তাছাড়া এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত নার্স বেশিরভাগ সময় মোবাইল নিয়ে ব্যাস্ত থাকে বলে অভিযোগ করেন।
পরিস্থিতির সামাল দিতে ছুটে আসেন সালানপুর থানা ইনচার্জ পবিত্র কুমার গাঙ্গুলি এবং রূপনরায়নপুর ফাঁড়ি ইনচার্জ রাহুলদেব মন্ডল ও উৎপল ব্যানার্জি সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং সমাজসেবী ভোলা সিং,বিএমওএইচ সুব্রত সিট এসে গোটা ঘটনার শুনে পরিজনদের সঠিক বিচারের আশ্বাসদেন।এর পরে পরিবারের সদস্যরা শান্ত হয়ে বিক্ষোভ তুলে নেয়।
