Type Here to Get Search Results !

দুর্গাপুরের ভৌতিক ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে চলছে কিছু অসাধু চক্র বলে অভিযোগ শিল্পাঞ্চলবাসীর


প্রতিনিধি দুর্গাপুরঃ-  ডঃ বিধান চন্দ্র রায়ের স্বপ্নের সুপরিকল্পিত শহর দুর্গাপুরকে হঠাৎই ভুতুড়ে শহর প্রমাণ করতে কয়েক বছর ধরে তৈরী করা হচ্ছে নানান ভুতুড়ে কাহিনী বলে অভিযোগ। পরিত্যক্ত কলোনি থেকে শিল্পাঞ্চলের প্রাচীন গাছ নিয়ে ভুতুড়ে গল্প ফেঁদে তৈরী  হচ্ছে ভিডিও ৷ বাদ দেওয়া হয়নি দুর্গাপুরের গর্ব রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। 'ভুতুড়ে শহর দুর্গাপুর ' এমনই আখ্যা দিয়ে ভৌতিক ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে চলছে কিছু অসাধু চক্র বলে অভিযোগ শিল্পাঞ্চলবাসীর। 

শহরবাসীর অভিযোগ, যে সব এলাকা ঘিরে ভৌতিক কাহিনীগুলি তৈরী করা হচ্ছে, কৌতুহলী মানুষের প্রশ্নের জবাব দিতে নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে সেই সব এলাকাবাসীদের।আধুনিকতার যুগে শিল্প শহরে হঠাৎই অবাস্তব গল্পগুজব ছড়িয়ে যাওয়ায় এলাকায় বসবাসকারী মানুষ'কে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানান তারা।অভিযোগ,দুর্গাপুরের বেশ কয়েকটি এলাকার ভৌতিক গল্প ও ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যত বেশি ভাইরাল করা হচ্ছে ততই বেশি এলাকা গুলিতে আতঙ্কও ছড়াচ্ছে।এলাকাবাসী'র দাবি, দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ সহ দুর্গাপুর প্রশাসন ভাইরাল করা এই অসৎ চক্র রোখার ব্যবস্থার পাশাপাশি ওই এলাকা গুলি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে কলকাতার এক ব্যক্তি ওই স্কুলে আসেন। তিনি যন্ত্রের সাহায্যে ওই স্কুলে ভূত আছে বলে প্রচার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর পরেই  ওই ব্যক্তির তৈরী স্কুলের ভৌতিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় যত বেশি ভাইরাল হতে থাকে তত ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা অস্বস্তিতে পড়তে থাকেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন সরকার ও দেবব্রত শো বলেন, পরিত্যাক্ত স্কুলটিতে ভূতের তকমা দিয়ে বেশ কয়েকটি ইউটিউবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিউয়ার বাড়িয়ে রোজগার শুরু করেছে। 

কিন্তু আমাদের এলাকায় এই ধরনের বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়িয়ে তাদের বিপাকে ফেলেছে। শহরের বহু বাসিন্দা অদ্ভুতভাবে ওই স্কুলটি দেখতে আসে ভূত আছে বলে। এই বিষয়টি আমদের কাছে অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দাবি প্রশাসন ওই ধরনের ভিডিও গুলি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ডিলিট করার ব্যবস্থা করলে স্থানীয়রা উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি দুর্গাপুরও বদনাম থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়াও দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (ডিএসপি) কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন স্কুলের ঝোপজঙ্গল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করলে উপকৃত হতাম। 

'ভূতুড়ে শহর দুর্গাপুর' আখ্যা দেওয়া ও গুজব সহ আতঙ্ক ছড়ানোর প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই   প্রশাসনের দারস্থ হয়েছেন দুর্গাপুর টাউন নাগরিক কমিটি। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের শিবাজি বয়েজ হাইস্কুলে দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর আগে পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে যায়। পরিত্যাক্ত ওই স্কুল ঝোপঝাড় সহ জঙ্গলে পরিণত হয়। 

দুর্গাপুরবাসীর আরও অভিযোগ,  দুর্গাপুরের রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান দুর্গাপুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি নিয়েও প্রেত আত্মার ভৌতিক ভিডিও একইরকম ভাবে তৈরি করা হয়। পাশাপাশি এইচএফসি'র পরিত্যাক্ত কলোনি নিয়েও তৈরী হয় ভৌতিক ভিডিও।দুর্গাপুর সিটিসেন্টারের মহাত্মা গান্ধী রোডের পাশে একটি প্রাচীন গাছেও প্রেতআত্মার গল্প ফাঁদা হয়। 

সিটিসেন্টারের বাসিন্দা তথা দুর্গাপুর টাউন নাগরিক কমিটির সদস্য পীযূষ কুমার মজুমদার বলেন, বিধান চন্দ্র রায়ের স্বপ্নের শহর দুর্গাপুর। সুসজ্জিত এই শহরকে বিভিন্ন রকমভাবে ভূতুড়ে শহর বলে তকমা দিচ্ছে কয়েক বছর ধরে কিছু অসাধু চক্র। মহাত্মা গান্ধী রোডের ওই গাছটি  এমন স্থানে রয়েছে তাতে প্রায়ই যানবাহন চালকরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই গাছে ধাক্কা মারে। বহুজনের দুর্ঘটনায় মৃত্যুও হয়েছে। গাছটি কেটে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ওই গাছটি বিপদজনক স্থানে রয়েছে। তা বলে ওই গাছে কোনও ভূত প্রেত নেই।

বিভিন্ন রকমভাবে ভৌতিক ভিডিও তৈরী করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করা হচ্ছে। এই সব অনৈতিক ও বিভ্রান্তমূলক গুজবের প্রতিবাদ করছি। যদি কোনও সুরাহা হয় তাই বিষয়টি নিয়ে  ইতিমধ্যেই শহরের মেয়র'কে জানিয়েছি।

আরো পড়ুন:- মা আসছেন,কিন্তু মন ভালো নেই বর্ধমানের নীলপুরের পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের

ডিএসপি'র জনসংযোগ আধিকারিক আশরাফুল হোসেন মজুমদার বলেন, টাউনশিপ ডিপার্টমেন্টে বিষয়টি জানিয়ে ঝোপজঙ্গল পরিষ্কার করা হবে।দুর্গাপুরের মেয়র দিলীপ অগস্থি বলেন, বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। পুলিসের সাইবার ক্রাইম বিভাগ এই বিষয়টি দেখবে।

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Top Post Ad

Below Post Ad