সোমনাথ মুখার্জী, অন্ডাল :-বুধবার পশ্চিম বর্ধমান জেলার অন্ডাল ব্লকে পরীক্ষামূলকভাবে হল শুরু হল দুয়ারে রেশন প্রকল্প । প্রথম পর্যায়ে চলতি মাসের ২৮ তারিখ পর্যন্ত প্রকল্পটির চালু থাকবে । পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ । সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটের প্রচারে তৃণমূল দলের পক্ষ থেকে তৃতীয়বার সরকারে এলে যে সবল সকল প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে অন্যতম ছিল দুয়ারে রেশন প্রকল্পটি । তা নিয়ে কটাক্ষ করেছিল বিরোধীরা ।
প্রতিশ্রুতিমতো বুধবার রাজ্যজুড়ে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকল্পটি চালু করল রাজ্য সরকার । তারই অঙ্গ হিসাবে অন্ডাল ব্লকের অন্ডাল পঞ্চায়েত আটটি পঞ্চায়েত এলাকায় এই প্রকল্পের সূচনা হল । প্রকল্পটি ঘিরে আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল আগ্রহ । এদিন বাড়িতে বসেই রেশন সামগ্রী পাওয়ায় খুশি গ্রাহকেরা। উখরার বাসিন্দা সুজাতা বসু সরকার জানান, এতদিন রেশন দোকান থেকে রেশন নিয়ে আসত বাড়ির পুরুষরাই । প্রকল্পটির মাধ্যমে জীবনে প্রথমবার নিজের হাতে রেশন নিলাম ।
খাঁদরা পঞ্চায়েতের মুকুন্দপুরের বাসিন্দা মনু বাউরি ও ভাগ্যধর বাউরিরা জানান ,প্রকল্পটি চিরস্থায়ী হলে আমরা উপকৃত হব ।কারণ এতদিন কাজ কামাই করে রেশনের দোকানে লাইনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হতো । আজ ঘরে বসেই রেশন সামগ্রী পাওয়ায় খুশি আমরা ।
তবে গ্রাহকরা খুশি হলেও প্রকল্পটি নিয়ে ভিন্নমত পাওয়া গেল ডিলারদের একাংশের থেকে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার জানান, সরকারের চিন্তাভাবনা ভালো, তবে প্রকল্পটিকে চিরস্থায়ী করতে পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও ডিলারদের আর্থিক দিকটি সরকারকে ভেবে দেখতে হবে । কারণ স্বল্প পরিকাঠামো ও ন্যূনতম কমিশন ডিলাররা পায়।
খাঁদরা পঞ্চায়েতে বুধবার প্রকল্পটির শুভ সূচনা করেন পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামলেন্দু অধিকারী । প্রকল্পটির শুভ কামনার পাশাপাশি বাস্তবে বাস্তবায়িত করার জন্য ধন্যবাদ জানান রাজ্য সরকারকে ।
অন্ডাল ব্লকের ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সুদীপ্ত বিশ্বাস জানান ,এটা পাইলট প্রজেক্ট চলতি মাসের আটাশ তারিখ পর্যন্ত চলবে । প্রাথমিক পর্যায়ের পর্যালোচনার পর সরকারের পরবর্তি নির্দেশ মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে ।
