আমরা অনেকেই অহেতুক দুশ্চিন্তা করি। বিশেষ করে এই পান্ডেমিক এর সময় মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ করে দিয়েছে। মানসিকভাবে অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। অতিরিক্ত কল্পনা, টেনশন এবং অহেতুক উদ্বেগে ভুগছে মানুষ। শৈল্পিক মনের মানুষেরা যখন তখন ভাবুক হয়ে যেতে পারেন, যখন তখন কল্পনার সাগরে ডুব দিতে পারেন। তবে সেটা সৃষ্টির ভাবনা। তবে যারা সবসময়ই চিন্তার মধ্যেই ডুবে থাকতে চান তাঁদের সমস্যাটা একেবারেই আলাদা ।
যে কথায় চিন্তা করার কথা নয়, দেখা যায় সে কথা নিয়েও চিন্তা করছেন অনেকে। সারাক্ষণই ছোট বড় সব ব্যাপারে অহেতুক চিন্তা করেন তাদের বেশির ভাগই নানা রকম মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। বেশির ভাগ সময়ই চিন্তামগ্ন থাকার জন্যে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারেন না। কেননা ঘুমের মধ্যেও এঁদের মস্তিষ্ক চিন্তামগ্ন থাকে।
অকারণ চিন্তা, অহেতুক কল্পনা যারা করেন এটা তাদের ক্রমশ অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। অথচ আপনি জানতেও পারবেন না কখন এটা অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যাটিকে বাড়তে না দিয়ে এর প্রতিকার করা অত্যন্ত জরুরী। আপনার অতিপ্রিয় কিংবা কাছের কারো সাথে মনোমালিন্য হলে আপনি সারাক্ষণই সেটা নিয়ে ভাবতে থাকেন। আশেপাশের অন্যান্যরা আপনাকে নিয়ে কি ভাবছে সেটা নিয়েও আপনি দুশ্চিন্তা করেন। শুধু তাই নয়, দেখা যাচ্ছে খুবই সাধারণ কথা, সেটা নিয়েও আপনি চিন্তা করছেন যে যাকে বলেছেন তিনি আবার কিছু মনে করলেন না তো? আশেপাশের কেউ কিছু বললে আপনি সেটার নেপথ্যের কারণ খুঁজতে থাকেন এবং এতে করে আপনার দুশ্চিন্তা বাড়ে। নেপথ্যের কারণ তো খুঁজতেই হবে কিন্তু সেটারও একটা পরিমাপ আছে।কিন্তু এই অবস্থা থেকে মুক্তি প্রয়োজন।
আপনার যদি মনে হয় আপনি একাই এই সমস্যায় ভুগছেন তাহলে সেটা ভুল ধারণা। সারা পৃথিবীর প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষেরই এই সমস্যাটি রয়েছে। তাই ভয় না পেয়ে চেষ্টা করুন নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত রাখার। জেনে নেওয়া যাক কিভাবে আপনি চিন্তামুক্ত হবেন।
১) সমস্যার কথা চিন্তা না করে এর সমাধানের পথ খুঁজুন। তাহলে দেখবেন অনেক হাল্কা হয়ে গেছেন। এতে করে সমস্যার সমাধানও হবে আর আপনিও হাল্কা হয়ে যাবেন।
২) বুঝেশুনে চিন্তা করুন ,মানে যেটা আপনার বশে নেই সেটা নিয়ে চিন্তা করতে যাবেন না। নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন খুব ভালোভাবে যে যা আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে তা কখনোই আপনার হবে না। চিন্তা করুন, দুশ্চিন্তা নয়।
৩) নিজেকে চিনুন ও জানুন অর্থাৎ আপনি যদি আপনার ক্ষমতা, জ্ঞানের দৌড় সম্পর্কে না জানেন তাহলেই সমস্যা। আর যদি জানার চেষ্টা করেন তাহলে দেখবেন কোনকিছুতেই আর দুশ্চিন্তা হচ্ছে না।কোন পরিস্থিতিতে আপনার অবস্থা কেমন হবে সেটা আপনি নিজেই ভালো করে বুঝবেন। নিজের সমস্যা জানতে পারলে আপনি আগেভাগেই সতর্ক হয়ে যাবেন। আবার সমস্যায় পড়লে আপনি আপনার সঠিক ক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাসের বলে বেরিয়ে আসবেন।
৪) নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখার জন্য ধ্যানের বিকল্প নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে ধ্যান করুন।
৫) দুশ্চিন্তা হলে প্রকৃতিতে চলে যান। সবুজ দেখুন , আকাশ দেখুন। আপনি অনেক আরাম বোধ করবেন। একটা ঘরে বন্দী থাকলে মানুষের চিন্তাভাবনা পঙ্গু হয়ে যায়। খোলা জায়গায় ভালো চিন্তা আসে।
৬) মনে কথা জমিয়ে রাখা দুশ্চিন্তা সৃষ্টির অন্যতম এক কারণ। যখনই মনে হবে মনে কথা জমে যাচ্ছে তখনই সব কথা খুলে বলুন কাছের মানুষটিকে। সেটা যে ভালোবাসার মানুষই হতে হবে এমন কোন কথা নয়, সেটা আপনার মা হতে পারে, বন্ধু হতে পারে।
দুশ্চিন্তা কখনোই আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো না। যখনই দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হবেন তখন নিজেকে অন্যমনস্ক করে ফেলুন।আবারো বলি চিন্তা করুন, দুশ্চিন্তা নয়।
